Daily Khulnar Khobor
প্রিন্টের তারিখঃ ১২:০০:০০ এএম   |   প্রকাশের তারিখঃ 06-10-2026 ইং
ঈশানা ননওভেন ঘিরে শব্দদূষণের অভিযোগ, ঝুঁকিতে ৮ শতাধিক কর্মসংস্থান
ঈশানা ননওভেন ঘিরে শব্দদূষণের অভিযোগ, ঝুঁকিতে ৮ শতাধিক কর্মসংস্থান
প্রতিনিধি, নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

খুলনার আড়ংঘাটা এলাকায় রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান ঈশানা ননওভেন ফেব্রিক্স লিমিটেডকে ঘিরে শব্দদূষণের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় আট শতাধিক স্থানীয় শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের দাবি। স্থানীয়দের একটি অংশ বলছে, কারখানাটি চালু হওয়ার পর এলাকায় কর্মসংস্থান ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন বেড়েছে।

সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় জেনারেটরের শব্দদূষণের অভিযোগে পরিবেশ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। তবে অভিযোগকারীদের কয়েকজন পরবর্তীতে দাবি করেন, অভিযোগপত্রে তাদের স্বাক্ষর নকল করা হয়েছে এবং তারা ওই অভিযোগ করেননি। তাদের দাবি, জমি বিক্রিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে কারখানাটির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে কারখানাটি বন্ধ না করে উৎপাদন সচল রাখার দাবিতে স্থানীয়দের পক্ষ থেকেও পরিবেশ অধিদপ্তরে পাল্টা আবেদন করা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সরেজমিন পরিদর্শনের নথিতে কারখানার পাশের একটি বাড়িতে ৭৫ ডেসিবেল শব্দমাত্রা রেকর্ডের কথা উল্লেখ রয়েছে। পরে জেনারেটর সাউন্ডপ্রুফ কক্ষে স্থাপন, শব্দ ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং নির্দিষ্ট জানালা ও এক্সস্ট ফ্যান বন্ধ রাখাসহ বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়ে কর্তৃপক্ষকে ৪৫ দিনের সময় দেওয়া হয়।

কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে সাউন্ডপ্রুফ ব্যারিকেড ও ককশিট ব্যবহারসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং শব্দদূষণ প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কমানো হয়েছে। তবে আধুনিক প্রযুক্তির পূর্ণাঙ্গ শব্দ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপনে অতিরিক্ত জায়গা ও সময় প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, কারখানাটি চালু থাকায় শত শত মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়েছে। তাদের মতে, শব্দদূষণের সমস্যা থাকলে তা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সচল রাখা উচিত।

বাপা খুলনা জেলার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, কোনো অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযোগকারীর পরিচয় ও অভিযোগের পেছনে ব্যক্তিগত স্বার্থ রয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরিবেশগত নিয়ম মেনে শিল্পকারখানা পরিচালনা নিশ্চিত করাও জরুরি।

ঈশানা ননওভেন ফেব্রিক্সের জেনারেল ম্যানেজার জামিউল হাসান বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী শব্দদূষণ কমানোর কাজ চলছে। যৌক্তিক দামে প্রয়োজনীয় জমি পাওয়া এবং পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হলে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে শব্দ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদ বলেন, কারখানাটির পক্ষে-বিপক্ষে একাধিক অভিযোগ এসেছে। দুই পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে এলে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব। কারখানাটির পরিবেশ ছাড়পত্র রয়েছে, যার মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত বহাল। ৪৫ দিনের সময় শেষ হলে পরবর্তী পদক্ষেপ বিবেচনা করা হবে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ Daily Khulnar Khobor
🏠 হোম