সিলেটে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি ও অনিয়ম ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে জেলা প্রশাসন। আগামী সোমবার থেকে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে দায়িত্ব পালন করবেন জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটরা। এ সময় টিকিটে উল্লেখ করা যাত্রীর নামের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য যাচাই করা হবে। নামের মিল না থাকলে সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে ট্রেনে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হবে না।

সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে টিকিটের অনিয়ম বন্ধ এবং প্রকৃত যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

গত বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় চারজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে টিকিটের বিভিন্ন অনিয়ম ও অসংগতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরিদর্শনে কয়েকজন যাত্রীর টিকিটের সঙ্গে এনআইডিতে থাকা নামের মিল পাওয়া যায়নি বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

তিনি বলেন, সোমবার থেকে টিকিটে থাকা নামের সঙ্গে যাত্রীর এনআইডির নাম মিলিয়ে দেখা হবে। সিলেট থেকে ঢাকা কিংবা অন্য কোনো গন্তব্যে যেতে হলে যাত্রীর টিকিটের তথ্যের সঙ্গে এনআইডির তথ্যের মিল থাকা বাধ্যতামূলক। কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে ওই যাত্রীর ভ্রমণ বাতিল করা হবে।

এদিকে, অনলাইনে ট্রেনের টিকিট ছাড়ার পরপরই তা শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি সিলেটে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এ ঘটনায় স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেন সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল নোমান। গত বুধবার মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসক রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করেন এবং টিকিটের অনিয়ম রোধে প্রশাসনের উদ্যোগের কথা জানান। সংশ্লিষ্টদের আশা, নিয়মিত তদারকি ও পরিচয়পত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে টিকিট কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।